কুলিয়ারচরে স্বপ্নসারথি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত: ২৪ জন সদস্য পেলেন সনদ ও উপহার
মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম, কুলিয়ারচর, (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
“পাড় করেছি আঠারো, পেরিয়ে যাব পাহাড়ও” — এই অনুপ্রেরণামূলক স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির স্বপ্নসারথি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান-২০২৫। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ মাসুদ রানা, কুলিয়ারচর থানা ওসি (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এসআরএমজি কিবরিয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক, রামদী ইউনিয়ন প্রশাসক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম, উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা (তথ্য আপা প্রকল্প ২য় পর্যায়) শিউলি আক্তার, উপজেলা সমন্বয়কারী (গ্রাম আদালত) মোঃ হামিদুল ইসলাম, ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির অফিসার সেলপ্ জাকিয়া সুলতানা ও সিও সেলপ্ চৈতী রাণী দাস, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাংবাদিক, ব্র্যাকের মাঠকর্মী, অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে।
বক্তব্যে প্রধান অতিথি ইউএনও মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বলেন, আজকের এই আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি অনন্য উদ্যোগ। “স্বপ্ন সারথি” কর্মসূচির সদস্য যারা সচেতন থেকে নিজেদের বাল্যবিবাহ রোধ করেছেন, ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না করে নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিয়েছেন—তারা আজকের প্রকৃত নায়িকা। আমি প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।
তিনি বলেন, স্বপ্নসারথি মেয়েরা আজ প্রমাণ করেছে, ইচ্ছা থাকলে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। আঠারো পার হয়ে যে মেয়েরা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধিকে না বলেছে, তারা আজ সমাজে পরিবর্তনের অগ্রদূত। তাদের এই সাহস ও সচেতনতা আমাদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা, শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসই প্রধান হাতিয়ার। পরিবার ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে যাতে প্রতিটি কন্যাশিশু নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে স্বপ্নসারথি গ্র্যাজুয়েশনের ২৪ জন সদস্যের হাতে রজনীগন্ধার স্টিক, সনদপত্র ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, এ ধরনের গ্র্যাজুয়েশন আয়োজনের লক্ষ্য হলো বাল্যবিবাহ রোধে যারা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সম্মানিত করা এবং অন্যান্য কিশোরীদের অনুপ্রাণিত করা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান।













Leave a Reply