মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ ও আসামি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, জনতার হাতে আটক বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও দুই মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য মামলার নথিতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রবিবার দিবাগত রাতে কুলিয়ারচরের লোকমান খাঁর কান্দি এলাকায় সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকার আটক করে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি তল্লাশি করে ৫টি বস্তায় আনুমানিক শত কেজি গাঁজা উদ্ধার করে এবং দুইজনকে আটক করে।
তবে পুলিশ দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছে, কিশোরগঞ্জ পুলিশের হেফাজতে থাকা ৩৩৬ (তিনশত ছয়ত্রিশ) পিস ইয়াবা, ৭০ (সত্তর) কেজি গাঁজা এবং একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-খ-১২-৪৯২০। যাহার মামলা নং-০৫, তারিখ: ১৯/০১/২০২৬।
মামলায় ধৃত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ বিল্লাল মিয়া (৩০), পিতা– মোঃ আবুল কালাম, সাং– উত্তর নরপতি (নরপটি), থানা– কুলিয়ারচর, জেলা– কিশোরগঞ্জ। অথচ এ নামে কুলিয়ারচরে কোনো গ্রাম নেই এবং অপর আসামির কোনো তথ্যও প্রেস রিলিজে উল্লেখ নেই। অভিযোগ রয়েছে, জনতার হাতে আটক অপর আসামিকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, উদ্ধার হওয়া গাঁজার প্রকৃত পরিমাণ কেন মামলায় কম দেখানো হলো, জনতার হাতে আটক একজনকে কোন আইনগত প্রক্রিয়ায় ও কার নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হলো, উদ্ধারকৃত মাদক ও গাড়ি কি নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না ?
একই প্রশ্ন কুলিয়ারচর থানার ওসি-কে সাংবাদিকরা রাখলে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের সঠিক কোনো সদুত্তর দেননি ওসি মোঃ নূরুন্নবী এবং তিনি প্রশ্নগুলো কৌশলে এড়িয়ে যান। সর্বশেষ দু’জন আসামির আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং মাদক উদ্ধারের সঠিক পরিমাণই উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দৃশ্যপট নিউজ / nazir ahammad








