নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, বিক্রয় নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল (নমুনা) ওষুধ বিক্রি এবং ড্রাগ লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় চারটি ফার্মেসিকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
ভৈরব উপজেলা প্রশাসন ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.এইচ.এম আজিমুল হক। এসময় কিশোরগঞ্জ জেলা ড্রাগ সুপার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান এবং ভৈরব থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে কয়েকটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকদের জন্য সরবরাহ করা বিক্রয় নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ড্রাগ লাইসেন্সের মেয়াদও নবায়ন করা হয়নি।
এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় সোহাগ মেডিকেল হলকে ৫ হাজার টাকা, সরকার মেডিকেল হলকে ৫ হাজার টাকা, কাজী ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা এবং সেবা মেডিসিন সেন্টারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা ড্রাগ সুপার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন,মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কিংবা ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। জনস্বার্থে আমরা নিয়মিত তদারকি ও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.এইচ.এম আজিমুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কোনো ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ বা অবৈধভাবে ওষুধ বিক্রি করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় ফার্মেসিগুলোর কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারকি করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৃশ্যপট নিউজ/ NA






