বাড়িতে বাড়িতে রাত ঘুরে ঘুমন্ত ও অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোঃ ইয়াসিন খন্দকার
মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম
“কম্বলখান পাইয়া আমার বাল লাগদাছে,
আজ রাইতটা বালা কইরা ঘুমাইতে ফারুম, আল্লা বাবারে বালা রা…হোউক।”
উক্তিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলছিলেন শীতার্ত বৃদ্ধা আনোয়ারা। তীব্র শীতের রাতে একটি কম্বল যেন তাঁর কাছে আশীর্বাদের মতো।

পৌষের কনকনে শীতে কাঁপছে জনপদ। ঠিক সেই প্রচণ্ড ঠান্ডার মুহূর্তে ঘরের উষ্ণতা ছেড়ে অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার মানবিক ইউএনও মোঃ ইয়াসিন খন্দকার।
কয়েকদিন যাবত প্রতি রাতের আঁধারে তিনি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিজে উপস্থিত থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে পায়ে হেঁটে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ঘুরে প্রকৃত অসহায়, ঘুমন্ত ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র, শুকনো খাবার ও অতি দরিদ্রের মাঝে ডেউটিন ও নগদ টাকা বিতরণ করছেন।

শুধু বাড়িঘরেই নয়, কুলিয়ারচর রেলওয়ে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের বারান্দায়, খোলা জায়গা ও রাস্তাঘাটে অবস্থানরত ভাসমান মানুষদের মাঝেও তিনি নিজ হাতে কম্বল তুলে দেন। এ সময় শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী ও পুরুষ শীতবস্ত্র পেয়ে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে ইউএনও নিজেই ঘুমন্ত মানুষের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন, যেন শীতের কষ্টে তাদের ঘুম না ভাঙে। প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শীতার্তরা।

এ বিষয়ে ইউএনও মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বলেন, তীব্র শীতে কেউ যেন কষ্ট না পায়, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা রাতের বেলায় প্রকৃত অসহায়দের খুঁজে বের করে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।
স্থানীয় সচেতন মহল ইউএনওর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের এমন মানবিক ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভালোবাসা বাড়ায়।
উল্লেখ্য, চলমান শীত মৌসুমে উপজেলা প্রশাসনের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
দৃশ্যপট নিউজ /nazir ahammad








