মো: নাঈমুজ্জামান নাঈম
সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত প্রবাসী মোঃ রাশেদ মিয়া (৪০)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের চর কামালপুর পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মোঃ আহাদ মিয়ার ছোট ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রাশেদ মিয়া। তিনি সৌদি আরবের দাম্মাম অঞ্চলের হাসা, মাহসিন যাওয়া-যাত অফিস সংলগ্ন বরকত উল্লাহ কেরেলা হোটেলে কর্মরত ছিলেন। গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) সৌদিতে কাজেরত অবস্থায় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।
জানাযায়, কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন নিহতের স্ত্রী, মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনরা। নিহত রাশেদ মিয়ার এক স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নিহতের মা-বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের লাশটুকু অন্তত দেশে এনে শেষবারের মতো দেখতে চাই। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি—লাশ দ্রুত দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হোক।
এদিকে নিহতের পরিবার সরকার, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রবাসীদের প্রতি দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা যায়।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বলেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশটি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন সর্বস্তরের মানুষ।
দৃশ্যপট নিউজ / nazir ahammad








