নাজির আহমেদ আল-আমিন
দীর্ঘদিন পর ভৈরবে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি, সন্তুষ্টি ও আস্থার অনুভূতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল নিয়ন্ত্রিত, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর না থাকায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্ক অবস্থান ভোটারদের মধ্যে দৃঢ় নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। লাইনে দাঁড়িয়ে নিয়ম মেনে ভোট প্রদান, কেন্দ্রভিত্তিক নজরদারি এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা-সব মিলিয়ে ভৈরববাসী এবারের নির্বাচনে ভিন্ন অভিজ্ঞতা পেয়েছেন।
আগানগর ইউনিয়নের ভোটার কাসেম মিয়া বলেন, এবার কেন্দ্রে এসে কোনো রকম চাপ অনুভব করিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছি।”
ভৈরব পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার এক নারী ভোটার বলেন, আগে ভোট দিতে এলে ভয় কাজ করতো। কিন্তু এবার সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতি দেখে সাহস পেয়েছি। পরিবেশ খুবই ভালো ছিল।
কালীপুর এলাকার তরুণ ভোটার আমির হামজা বলেন, ১৫ বছর পর ভোট দিলাম। এত শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ দেখে ভালো লেগেছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। অত্র এলাকার প্রবীণ ভোটার হাফিজ উদ্দিন বলেন, এ ধরনের নির্বাচন হলে মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি আবার বিশ্বাস ফিরে পাবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রধান নির্দেশনা ছিল ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেন কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
একজন আনসার সদস্য জানান, সকাল থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা সতর্ক ছিলাম। ভোটাররা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারেন, সেটাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।
সার্বিকভাবে ভোটারদের অভিমত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের আস্থা বেড়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি। ভোটাররা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ভৈরববাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্ত ভিত্তি পাবে










Leave a Reply