নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের পৃথক অভিযানে নারী-পুরুষসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই নারী মাদককারবারিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও একজন মাদকসেবীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ভৈরব কার্যালয়ের সদস্যরা। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দণ্ড প্রদান করেন।
আটককৃতরা হলেন ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটি পুকুরপাড় এলাকার জজ মিয়ার মেয়ে মনোয়ারা বেগম (৪০), একই এলাকার ইব্রাহীম মিয়ার মেয়ে রুজিনা বেগম (২৮), গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকার মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে সেন্টু মিয়া (২৫), কমলপুর মোল্লা বাড়ি এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে রুমি বেগম (৩৬) এবং নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের মেয়ে শুভা বেগম (২২)।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ১০টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন নাটাল মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দুই নারী মাদককারবারি রুমি বেগম ও শুভা বেগমকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে ভৈরব থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে বেলা ১২টার দিকে শহরের পঞ্চবটি এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে দুই নারী মাদককারবারি ও এক মাদকসেবীকে আটক করা হয়। আটক মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে ৩২ পুরিয়া হেরোইন এবং রুজিনা বেগমের কাছ থেকে ৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত মনোয়ারা বেগম ও রুজিনা বেগমকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে মনোয়ারা বেগমকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এছাড়া সেন্টু মিয়া নামে এক মাদকসেবীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হকের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন, ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর এবং ভৈরব থানা পুলিশের সদস্যরা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে ভৈরবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই হিসেবে অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত দুই নারী মাদককারবারি ও এক মাদকসেবীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর মাদকদ্রব্যগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চন্দন ভৈরব সার্কেল এর পরিদর্শক গোপাল সুর পরিদর্শক এবিষয়ে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত দুই নারী মাদককারবারি ও মাদকসেবীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে নাটাল মোড় এলাকা থেকে আটক দুই নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের ভৈরব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন বলেন, মাদক নির্মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে অভিযান পরিচালনা করেছে কিশোরগঞ্জের খ সার্কেল এর সকল সদস্য নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আর এই অভিযানের নেতৃত্ব দেয় সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট এএইচএম আজিজুল হক।
তিনি আরও বলেন তিনজনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয় আর অপর দুইজনকে ভৈরব থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভৈরবসহ কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
দৃশ্যপট নিউজ/ NA





