মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় রাতের আঁধারে দুই বিধবা নারীর জমিতে প্রায় আড়াই শতাধিক ফলদ ও সবজি গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন, উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের মৃত বোরহান উদ্দিনের স্ত্রী হাসনা হেনা ও মৃত আব্দুল মিয়ার স্ত্রী সখিনা বেগম।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামে সরেজমিনে যান কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার।
এসময় তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই বিধবা নারীকে শুকনো খাবার, দুই বান টিন, তিন হাজার করে মোট ৬ হাজার টাকা নগদ সহায়তা, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষের চারা এবং সবজির বীজ প্রদান করেন।
এর আগে ঘটনাটি জানার পরপরই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা যায়,গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘটিত এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীরা সকালে কাটা ফলের গাছগুলো ও সবজির গাছ দেখে গাছগুলোর পাশেই আহাজারি করতে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের ওই দুই বিধবা নারী তাদের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ফলদ ও সবজি চাষ করছিলেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা প্রায় ২৫০টি দেশি-বিদেশি ফলদ গাছ, লাউ, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজির গাছ কেটে ফেলে।
পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে কাটা গাছের দৃশ্য দেখে ভুক্তভোগী নারীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
ইউএনও মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, বিধবা নারীদের স্বনির্ভর হওয়ার এমন একটি প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দেওয়া অত্যন্ত নির্মম ও অন্যায়। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী নারীরা ইউএনও ও কৃষি বিভাগের দ্রুত সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।








