ভৈরব প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এক ওষুধ কোম্পানির কর্মচারীকে অপহরণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের জগন্নাথপুর গাইনহাটি এলাকা থেকে শিকলবন্দি অবস্থায় নাঈম মিয়া (৩০)কে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া নাঈম মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার চান্দপুর এলাকার মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ভৈরব শহরের নিউটাউন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন এবং ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এ এমপিও পদে কর্মরত।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জগন্নাথপুর এলাকার খোকন মাহমুদ (৪০), আবুল কাশেম (৪৫), মো. রাজিব মিয়া (৩৫) ও শাহ আলম (৪৫)। এ ঘটনায় নাঈমের স্ত্রী সাজিয়া খানম নিশি রোববার সকালে ভৈরব থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-২৪) দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে শনিবার দুপুর ২টার দিকে ভৈরব বাজারের হাসপাতাল রোডে চৌধুরী ফার্মেসির সামনে থেকে নাঈমকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া গাইনহাটি এলাকায় খোকন মাহমুদের অফিসসংলগ্ন একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তার হাত-পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের জন্য তাকে রাতে স্ত্রীকে ফোন করতে বাধ্য করা হয় এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
শনিবার রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগীর স্ত্রী থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। রাত দেড়টার দিকে একটি গোপন কক্ষের দরজা ভেঙে নাঈমকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার হাত-পায়ে শিকল বাঁধা ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে চারজনকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করা হয়।
রোববার থানায় বসে নাঈম মিয়া বলেন, বাজার থেকে আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। একটি কক্ষে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। ৫০ লাখ টাকা দাবি করে এবং স্ত্রীকে ফোন করতে বলে। আমি স্ত্রীকে জানালে সে পুলিশকে খবর দেয়।
গ্রেপ্তারকৃত খোকন মাহমুদ দাবি করেন, তার ইতালি প্রবাসী বন্ধু আবুল কাশেমের স্ত্রী ছিলেন সাজিয়া খানম নিশি। তিনি স্বামীর অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে নাঈমের সঙ্গে চলে গেছেন বলে অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, ওই অর্থ-সম্পদের বিষয়ে জানতে নাঈমকে আটক করা হয়েছিল। তবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অভিযান চালাই। ভিকটিমকে শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দৃশ্যপট নিউজ / NA






