নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আত্মরক্ষায় বলীয়ান হয়ে উঠছে একঝাঁক তরুণ-তরুণী। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পৌর শহরের বাংলাদেশ রেলওয়ে স্কুল মাঠে প্রতিদিন গড়ে ওঠে এক ভিন্ন দৃশ্য। সাদা পোশাক আর দৃপ্ত ভঙ্গিমায় একদল শিক্ষার্থী মার্শাল আর্ট কারাতে অনুশীলনে ব্যস্ত। তাদের চোখেমুখে আত্মবিশ্বাস, শরীরে ছন্দময় শক্তির প্রকাশ।
বিশেষ করে মেয়েদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। আগে যেখানে তারা স্কুল-কলেজে যাতায়াত কিংবা একা চলাফেরায় ভীত ছিল, এখন কারাতে শেখার ফলে নিজেরাই আত্মরক্ষায় সক্ষম হয়ে উঠছে। ফলে তাদের বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তাও অনেকটা কমে এসেছে।
২০২১ সালে মাত্র ৪-৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ভৈরবে যাত্রা শুরু করে রমজান কারাতে ফেডারেশন। বর্তমানে এই ফেডারেশনের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ফেডারেশনের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিতেছে বহু পদক। শুধু চলতি বছরেই ১০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য এবং ২টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে।
ভৈরব রেলওয়ে স্কুলের শিক্ষার্থী তাসমিয়া আক্তার বলেন, কারাতে শেখার পর আমি অনেক সাহসী হয়ে গেছি। এখন একা বাজার বা টিউশনে যেতে ভয় লাগে না।
শিক্ষার্থী মাহফুজ আহমেদ বলেন,শরীর সুস্থ রাখা ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার জন্য কারাতে অসাধারণ। পড়াশোনার পাশাপাশি এটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আমাদের এলাকায় অনেক সময় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা হয়। এখন আমি জানি, প্রয়োজনে আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারব।

মো. ইমন হোসেন (শিক্ষার্থী): বলেন, কারাতে আমাকে ধৈর্যশীল হতে শিখিয়েছে। আগে রাগ হলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না, এখন অনেকটা বদলে গেছি।
অভিভাবক শাহনাজ পারভীন বলেন,আমার মেয়ে কারাতে শেখার পর থেকে আমি অনেকটা নিশ্চিন্ত। সে এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্কুলে যায়।
অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, কারাতে শুধু খেলা নয়, জীবনদক্ষতা। ছেলে শিখে শরীরচর্চার পাশাপাশি মানসিকভাবেও শক্তিশালী হচ্ছে।
অভিভাবক আজিজুল হক বলেন, বর্তমান সময়ে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় চিন্তিত থাকি। কারাতে প্রশিক্ষণ এই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়েছে।
ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রশিক্ষক রমজান আলী জানান, কারাতে শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক খেলা। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সম্মান অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কারাতে শেখা তরুণ-তরুণীদের ধৈর্যশীল, আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় মনের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব। এ কারণে তারা ভৈরবে একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়ামের দাবি জানাচ্ছেন।
কারাতে শুধু আত্মরক্ষার মাধ্যম নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সাহসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে এমনটাই বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট সবার। আর এই অনুশীলনের মধ্য দিয়ে ভৈরবের তরুণ-তরুণীরা হয়ে উঠছে আত্মবিশ্বাসী ও বলীয়ান নতুন প্রজন্মের প্রতীক।










Leave a Reply