নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোটের আর মাত্র ২দিন বাকি থাকায় দুই উপজেলাজুড়ে এখন জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও ছোট ছোট মতবিনিময় সভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। বাজার, চায়ের দোকান, গ্রাম ও শহরের মোড়ে মোড়ে ভোটের আলোচনা এখন প্রধান বিষয়।
আর ভোটাররা প্রার্থীদের অতীত ভূমিকা, ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মতো করে মূল্যায়ন করছেন।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফুল আলম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক ও পথসভা করছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফুল আলম স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ভৈরব ও কুলিয়ারচরের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন। দীর্ঘ এই সময়জুড়ে দলীয় রাজনীতি, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে এলাকায় নিজের একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি।
বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করছেন। বাজার, পাড়া-মহল্লা, গ্রাম, উঠান বৈঠক-সব জায়গায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। অনেকেই তাকে দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষ হিসেবে দেখেন। স্থানীয়দের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং সহজে কাছে পাওয়া যায়। এসব কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়েও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাই তার প্রচারণায় একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

গণসংযোগকালে মো. শরীফুল আলম বলেন, আমি প্রায় তিন দশক ধরে ভৈরব-কুলিয়ারচরের মানুষের সঙ্গে রাজনীতি করছি। মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়েই পথ চলেছি। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সুবিধা বাড়াতে অগ্রাধিকার দেব। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে আমার প্রধান দায়িত্ব।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ১১ দলের জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় পথসভা, মতবিনিময় ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন এবং জোটের পক্ষে সমর্থন নিয়ে নির্বাচনের মাঠে ভোট চাচ্ছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া ভৈরব জেলা করার ব্যাপারেও অঙ্গিকার করেন।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ রুবেল হোসেন মোমবাতি প্রতীক নিয়ে ভৈরব ও কুলিয়ারচর এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। লিফলেট বিতরণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তিনি সমর্থন চাইছেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ রুবেল হোসেন বলেন, মানবিক ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করাই তার উদ্দেশ্য। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ মুছা খান হাতপাখা প্রতীক নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা, উঠান বৈঠক ও পথসভা তার প্রচারণার অংশ।

গণফোরামের প্রার্থী শাফি উদ্দীন আহম্মদ ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীক নিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার এলাকায় গণসংযোগ করছেন।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী নাঈমুল হাসান ‘আপেল’ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
কাস্তেতে ডা. মুহাম্মদ হাবিল মিয়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।
আম প্রতীকে মো: নজরুল ইসলাম ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী হিসেবে মাঠে-ঘাটে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আয়ুব হুসেন ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে ভৈরব ও কুলিয়ারচরে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এদিকে ভোটার ও ভৈরব বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রার্থীরা নিয়মিত আসছেন, কথা বলছেন। আমরা চাই নির্বাচনের পরেও যেন তারা এভাবেই পাশে থাকেন।

কুলিয়ারচরের এক তরুণ ভোটার বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, আমরা কাজ দেখতে চাই। যিনি এলাকায় থাকবেন, তাকেই ভোট দেব। নারী ভোটাররা জানান, রাস্তা, চিকিৎসা আর নিরাপত্তা-এই তিনটা বিষয় আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণার তীব্রতা। প্রতিটি প্রার্থী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করছেন। এখন পুরো কিশোরগঞ্জ-৬ এর দৃষ্টি ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে। সেদিনই ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে জনগণের রায়।




