- ছিনতাই-নিরাপত্তাহীনতায় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ, ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার দাবি
নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের বন্দরনগরী ভৈরবে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক সাধারণ সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সরকারি কাদির বকস্ পাইলট মডেল হাই স্কুল মাঠে দিনব্যাপী এ সভায় শত শত ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।
আলহাজ্ব জাহিদুল হক জাবেদ সভায় সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম (সিআইপি)।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক শবনম শারমিন। শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে স্বাগত বক্তব্যে চেম্বারের সভাপতি আলহাজ্ব জাহিদুল হক জাবেদ বিগত বছরের কার্যক্রম ও সভার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহীনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন চেম্বারের পরিচালক আরাফাত ভূইয়া ও প্রথম আলো বন্ধু সভার কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয়াংকা।
সভায় ভৈরব শহরের ব্যবসায়ীরা একের পর এক সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, ভৈরবের অর্থনীতির প্রাণশক্তি মেঘনা নদীঘাট, আড়ত ও পাইকারি বাজারগুলো নানা ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাই, চুরি ও মাদক ব্যবসা এখন ব্যবসায়ীদের প্রধান দুঃশ্চিন্তা।
এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে কেউ ভৈরবে ব্যবসার কাজে এলে ছিনতাইয়ের ভয়ে নিরাপদ বোধ করেন না। এতে ভৈরবের ব্যবসায়িক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরেকজন ব্যবসায়ী মেঘনা নদীর ভাঙন ও ঘাট রক্ষার দাবিতে বলেন, ঘাট বাঁচানো না গেলে ভৈরবের অর্থনীতি ধ্বংস হবে। এটা শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, পুরো অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন বলেন, ভৈরব ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। শুধু আজকের সমস্যার মধ্যে আটকে থাকলে চলবে না। আগামী ৩০ বা ৫০ বছর পর ভৈরবের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়— সেই পরিকল্পনা এখনই করতে হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের আশ্বাস দেন।
প্রধান অতিথি মো. শরীফুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের যে কোনো উন্নয়নের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। ভৈরবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। শহর রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সুযোগ পেলে আমি জগন্নাথপুর থেকে ভৈরব বাজার হয়ে মেন্দিপুর পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করব।
ছিনতাই ও মাদকবিরোধী লড়াইয়ে কড়া অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ভৈরবে ছিনতাই ও মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়। আমি চাই ভৈরবে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হোক। চোর, ছিনতাইকারী বা মাদক ব্যবসায়ী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতা করব।
আলোচনা শেষে ভৈরবের সেরা তিনজন করদাতা ও নারী উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্ট অনুমোদন শেষে উন্নয়নমূলক নানা প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে চেম্বারের সম্মানিত সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শেষ হয়।










Leave a Reply