নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সিলেট বাসস্ট্যান্ড (ফল মার্কেট) এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ভৈরব এন্টারপ্রাইজকে ঘিরে তার ম্যানেজার আনোয়ার পারভেজ এর বিরুদ্ধ শত কোটি টাকার লেনদেনে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ আবুল কালাম।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ও তার ছেলে বিজয় খন্দকার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফল ব্যবসায়ী হাজী জাকির মিয়া, মোস্তফা মিয়া, জুনাইদ আহমেদ, মাহবুব মিয়া, খোকন মিয়া ও মোশারফ মিয়াসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
লিখিত বক্তব্যে আবুল কালাম বলেন, ২০০৯ সালে তিনি সরল বিশ্বাসে মোঃ আনোয়ার পারভেজকে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন এবং প্রতিষ্ঠানের সকল আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করেন।
তার অভিযোগ, ২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ব্যবসার লেনদেনের জন্য আনোয়ার পারভেজ মোট ৩৮১ কোটি ৪৮ লাখ ১১ হাজার ৯২ টাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩৭৭ কোটি ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৫ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অবশিষ্ট ৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৭ টাকার কোনো সঠিক হিসাব দেওয়া হয়নি। এই অর্থ প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল কালাম জানান, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি অবশিষ্ট টাকার বিস্তারিত হিসাব চাইলে অভিযুক্ত বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে তোলা হলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তার সারা জীবনের উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে আনোয়ার পারভেজ একাধিক বাড়ির মালিক হয়েছেন এবং পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। অন্যদিকে তিনি ব্যবসায়িকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন এবং পাওনাদারদের টাকা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী হাজী জাকির মিয়া ও মোস্তফা মিয়া বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার পারভেজকে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবেই জেনে এসেছেন। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার পারভেজ বলেন, তিনি ম্যানেজার নন, বরং প্রতিষ্ঠানের পার্টনার ছিলেন। যদিও তার কাছে কোনো লিখিত পার্টনারশিপ চুক্তিপত্র নেই বলে স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, মালিকপক্ষের ছেলে ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধারদেনা করে তিনি ও তার স্ত্রী বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৃশ্যপট নিউজ /NA






