ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৩ জন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে একযোগে মাঠে নামতে হয়। ঘটনার পর থেকে মধ্যেচর গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আটককৃতরা হলেন,মধ্যেরচর পূর্বপাড়ার মানিকের ছেলে রাব্বি রহমান (২০), ইদগাহ এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে আকাশ আহমেদ (৩০), টান কৃষ্ণনগরের নওশাদ মিয়ার ছেলে ইদু মিয়া (২৪), গোছামারার আ. আলীর ছেলে শরিফ (২৫), আবদুল কাশেমের ছেলে পারভেজ (৩৪), মধ্যেরচর পশ্চিমপাড়ার মাছুম বিল্লাহর ছেলে সাইদুল (২০),ইমামের চরের শাহাবুদ্দিনের ছেলে মোজাহিদ মিয়া (৩৫), কালিকাপ্রসাদ চরের কান্দা এলাকার লতিফ মিয়ার ছেলে মো. শাওন মিয়া (২২), মধ্যেরচরের মো. বিল্লাল মিয়ার ছেলে মো. রাকিব (২৪), মধ্যেরচরের মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে সেলিম মিয়া (৪০),মধ্যেরচরের মৃত মো. আলীর ছেলে নিয়ামত উল্লাহ (২৭), মধ্যেরচরের ফরিদ মিয়ার ছেলে মো. পাভেল মিয়া (২৪), মধ্যেরচরের ইজু মিয়ার ছেলে তারেক (২২)।
জানাযায়, শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেচর গ্রামের পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার চলে। সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে কয়েকটি দোকান, বসতঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বহু পরিবার আতঙ্কে ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে মধ্যেচর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে মধ্যেচর কলেজপাড়া ফুটবল একাদশ ও ভাটিকৃষ্ণনগর ফুটবল একাদশের খেলাকে কেন্দ্র করে একটি গোল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তখনই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও বিরোধ রাতভর চলতে থাকে।
এর জেরে শনিবার সকালে গ্রাম্যভাবে মীমাংসার জন্য বৈঠক বসে। কিন্তু বৈঠক চলাকালেই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সেলিম মিয়া (৩৫), অজকরুনি মিয়া (৪৫), ছনিয়া বেগম (২৪), ইমন মিয়া (২২), সাদ্দাম মিয়া (৩০), সাজু (৫৪), সবুজ মিয়া (৩৩), শরীফ (২৫), মাহবুর (৩৪), পাবেল (২৬), ইকবাল মিয়া (৫১), সালমান ফরাজি (১৭)সহ আরও অনেকে। আহতদের অধিকাংশ ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত সবুজ মিয়া, সাদ্দাম মিয়া ও সালমান ফরাজিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষ। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আরও গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে না পারে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহলও অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যেচর গ্রামজুড়ে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোকানপাট আংশিক বন্ধ, সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে কঠোরভাবে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দৃশ্যপট নিউজ /nazir ahammad






