নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনে কর্ণফুলি ট্রেন থেকে নামানো শুল্ক ফাঁকি দেওয়া ভারতীয় থান কাপড় দীর্ঘ চার ঘণ্টা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর অবশেষে জব্দ করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
(৭ জানুয়ারি) বুধবার সাড়ে চারটা থেকে নয়টা পর্যন্ত ভৈরব বাজার জংশন রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে মালামাল পড়ে থাকার পুরো সময়জুড়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, শুরু থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও গড়িমসি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকাগামী কর্ণফুলি ট্রেনটি বিকাল সাড়ে চারটায় ভৈরব স্টেশনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই ১নং প্ল্যাটফর্মের বুকিং কাউন্টারে পাশে তিনটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বস্তাগুলোতে কী আছে জানতে চাইলে আশপাশে ঘোরাফেরা করা কয়েকজন সন্দেহজনক ব্যক্তি দ্রুত সরে পড়ে। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হলে তারা বস্তাগুলোর কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে পাহারা বসালেও দীর্ঘ সময় কোনো আনুষ্ঠানিক জব্দ প্রক্রিয়া শুরু করেনি।

স্থানীয় এক দোকানি বলেন, সন্ধা থেকেই বস্তাগুলো এখানে পড়ে ছিল। পুলিশ শুধু দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু খুলে দেখছিল না, জব্দও করছিল না। মনে হচ্ছিল সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, যদি এগুলো অবৈধ না হতো, তাহলে চার ঘণ্টা লাগত না। শুরুতেই জব্দ করলে এত কথা উঠত না।
অবশেষে প্রায় চার ঘণ্টা পর রেলওয়ে পুলিশ বস্তাগুলো খুলে তল্লাশি চালায়। এতে তিনটি বস্তার প্রতিটিতে ৩০ পিস করে মোট ৯০ পিস ভারতীয় থান কাপড়ের বান্ডেল পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ট্রেনে এনে সুবিধাজনক সময়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই মালামালগুলো স্টেশনে ফেলে রাখা হয়েছিল।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ দেখিয়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকা স্বাভাবিক নয়। তাদের দাবি, স্টেশনে নিয়মিতভাবেই শুল্ক ফাঁকির মালামাল আসে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে সেগুলো দ্রুত উধাও হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এখানে প্রায়ই এমন বস্তা নামে। কিন্তু সব সময় তো উদ্ধার হয় না। আজকে এত লোক জড়ো না হলে হয়তো এগুলোও অন্য জায়গায় চলে যেত।
রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানায়, তথ্যে জানতে পারি বিকাল সাড়ে চারটা কর্ণফুলি ট্রেন থেকে তিন বস্তা ভারতীয় থান কাপড় এসেছে। পরে উদ্ধার করে জব্দ করা কাপড় থানায় নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এছাড়া দীর্ঘ সময় বস্তাগুলো পরে থাকলেও জব্দ না করার কারণ জানতে চাইলে ওসি জানান, আমরা পুলিশ পাহারায় বস্তাগুলো রেখেছিলাম। কেউ এই বস্তাগুলো নিতে আসেন কিনা যেন আমরা তাকে আটক করতে পারি। এর জন্য কিছু সময় বিলম্ব হয়েছে। পরবর্তীতে বস্তাগুলো কেউ নিতে না আসায় আমরা জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এদিকে চার ঘণ্টা ধরে স্পর্শকাতর মালামাল পড়ে থাকা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভৈরব রেলস্টেশনে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের পুরোনো চক্র নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি এবং স্টেশনে কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
দৃশ্যপট নিউজ/nazir ahammad






