নাজির আহমেদ আল-আমিন
মহান বিজয় দিবস–২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, ভৈরব উপজেলা শাখার উদ্যোগে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভৈরব পৌর এলাকার নিউটাউনস্থ ফুড প্যালেস রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, ভৈরব উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান ফারুক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ, ভৈরব উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি মো. তোফাজ্জল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল বাহার, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজি মো. শাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক ও হাজি আসমত কলেজের সাবেক ভিপি মো. মুজিবুর রহমান। ভৈরব প্রেসক্লাবের আহবায়ক মোস্তাফিজ আমিন ও সদস্য সচিব সোহেলুর রহমান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সারোয়ার আলম মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম আঙ্গুর, সহ-সভাপতি ফাতেমা বেগমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দেলোয়ার হোসেন সুজন অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন এবং অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. সজীব আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহীদ ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বিজয়–২৫’ লেখা ও মুক্তিযুদ্ধের লোগো সংবলিত একটি করে মাফলার এবং একটি করে গ্লাস মগ উপহার দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন ভৈরব পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল আলম আক্কাছ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফিরোজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি মো. তোফাজ্জল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল বাহার, ফরিদ আহমেদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ না হলে বাংলাদেশ কখনো স্বাধীন হতো না। স্বাধীনতার কারণেই আজ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে বসবাস করছে এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারছে। তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি কুচক্রি মহল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করছে এবং কোথাও কোথাও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে। তারা বলেন, দেশ কখনো দুইবার স্বাধীন হয় না; ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় তারা আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এখনো বেঁচে আছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যারা মুছে ফেলতে চায়, সেই কুচক্রি মহলকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সারোয়ার আলম মাসুদ বলেন, ভবিষ্যতে যখন আর কোনো মুক্তিযোদ্ধা জীবিত থাকবেন না, তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব পালন করবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তার দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান করে। অতীতেও মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপস্থিত সবার অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি। পরে নৈশভোজে অংশ নেন অতিথি ও আমন্ত্রিতরা।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারবর্গ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দৃশ্যপট নিউজ /NA






