ভৈরবে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা করে সাবেক কাউন্সিলর ছিনিয়ে নেওয়া, ৬ জন নামসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ভৈরব প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে সাবেক এক কাউন্সিলরকে হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সরকারের চলমান বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২ এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ভৈরব উপজেলার কমলপুর এলাকার গাছতলা ঘাট মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভৈরব থানা পুলিশ।
অভিযান চলাকালে ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী সোহাগকে আটক করা হয়। তবে তাকে থানায় নেওয়ার আগেই তার সমর্থক ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, হামলাকারীরা পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়, মারধর করে এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক আটককৃত সোহাগকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে পিছু হটতে হয়।
এ ঘটনায় ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে
মামলার অভিযোগে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর হামলা এবং আটক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভৈরব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের আশ্রয়ে অপরাধীদের রক্ষা করার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
দৃশ্যপট নিউজ / nazir ahammad






