নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ সন্ধ্যার পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরে অন্ধকারে উভয় পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর হামলা-পাল্টাহামলা চালায়। এই সহিংস ঘটনায় উভয় পক্ষেের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। (৮ ডিসেম্বর) সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষ চলে।
এই ঘটনায় মোল্লা বাড়ির পক্ষের ১১ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত ফয়সাল মোল্লা (৩৭)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে শেখ বাড়ির আহতদের কয়েকজন কুলিয়ারচরসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তামজিদ মোল্লা (১৬), রাজু মোল্লা (২২), বাবু মিয়া (২৫), বশির মিয়া (৫৫), ফয়সাল মোল্লা (৩৭), সাইফুল (২২), শফিকুল ইসলাম (১৬), হজরত আলী (৪০), আব্দুর রহমান (১৬), ফখর উদ্দিন (১৬) ও শোয়েব (৩৬)।
এলাকাবাসীরা জানান, আধিপত্য ও রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে মোল্লা বাড়ি ও শেখ বাড়ির মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এর আগের দিন টুক চানপুর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে আহতদের সহায়তা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। সেই ঘটনার জের ধরে সোমবার বিকালে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন- মোল্লা বাড়ির পক্ষ থেকে ইউপি সদস্য হারুন মিয়া ও মুর্শিদ মিয়া, এবং শেখ বাড়ির পক্ষ থেকে মাইন উদ্দিন মিয়া ও দিলু মিয়া। উভয় পক্ষ দা, লাঠি, বল্লম ও ইট-পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্ধকার নেমে এলে দুই পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
মোল্লা বাড়ির সাইফুল ইসলাম বলেন, টুক চানপুরে আহতদের দেখতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল চালকদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অন্যদিকে শেখ বাড়ির গোলাপ মিয়া দাবি করেন, বিএনপি-সমর্থিত কিছু ব্যক্তি আওয়ামী লীগপন্থীদের সঙ্গে মিল রেখে এলাকায় আধিপত্য করতে চাইছে। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা হামলা চালায়। আবার উভয় পক্ষই দাবি করছে- প্রায় ১৫ জন করে আহত হয়েছে।
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।






