নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নে গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণের অগ্নিকাণ্ডে ১০ শিক্ষার্থীসহ ১৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় বর্তমানে তারা ঢাকা বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এদের মধ্যে আহতরা হলো- হারুন মিয়া (৪০) পিতা-জয়ধর মিয়া ,সোহাগ মিয়া (১০)পিতা-বাতেন মিয়া, ওয়াসিবুল (১০) পিতা-আঙ্গুর মিয়া ,সামিউল (৯) পিতা তৌহিদ মিয়া, আল আমিন (৮) পিতা- মৃত জাহাঙ্গীর মিয়া, শুভ( ৮) পিতা-এরশাদ মিয়া ,নিরব (১৫)পিতা -উজ্জল মিয়া, রাহাত(১২) পিতা -জিয়া রহমান, ফাহিম (১০)পিতা- মনসুর মিয়া, আমিন (১০) পিতা -রতন মিয়া, হেকিম মিয়া (৫৫) পিতা -জব্বার মিয়া ,সেরাজুল (১০) পিতা- আসাদুল্লাহ, ছিদ্দিক মিয়া(৫৮)পিতা- খালেক মিয়া, মোর্শিদ মিয়া (৫৫) পিতা -আঃ মালেক, নাছির মিয়া(৪০) পিতা – মৃত মোমতাজ মেম্বার।
স্থানীয়রা ও আহতদের স্বজনরা জানায়, গেলে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার টুকচাঁনপুর চরপাড়ার মেঘনা বাজারে প্রতিদিনের মত জহির মিয়া তার খাবারের হোটেলে সকালের নাস্তা বিক্রি শেষ করে হোটেল তালা দিয়ে বাড়ি চলে যায়। যাওয়ার আগে তিনি ভুলক্রমে গ্যাস সিলিন্ডারের রেগুলেটরের সুইস বন্ধ না করে চলে যান।বন্ধ হোটেলে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস বের হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন দেখতে পান হোটেলের ভিতর থেকে ধোয়াঁ বের হচ্ছে । পরে পাশ্ববর্তী আরেক দোকানের মালিক হারুন মিয়া ঐ হোটেলের সাটারের তালা ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখতে পান সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের ধোয়াঁ বের হচ্ছে।
এসময় দোকানের সামনে রাস্তায় দাড়িয়ে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা ও পথচারীদের ঘটনাটি দেখছিলেন। যখন হারুন মিয়া হোটেলের ভিতরে সিলিন্ডারের মুখ বন্ধ করে নিভৃতের চেষ্টা করে এই মুহূর্তে সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থীসহ আশেপাশের লোকজনসহ মোট ১৯ জন আহত হয়। এর মধ্যে ১০ জন স্কুল শিক্ষার্থী ছিলো।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে এদের মধ্যে ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকায় বার্ণ ইউনিটে রেফার্ড করে।
বর্তমানে ঢাকার বার্ণ ইউনিটে গুরুত্ব আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে হারুন মিয়া, আবুল হেকিম, সামিউল, নিরব ও রাহাত। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া বেসরকারি হাসপাতালে আরো ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে আহতের বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনুর রশীদ ও আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশরাফুল আজিজ। এসময় তারা আহতদের সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি অত্যান্ত হৃদয় বিদারক, আহতদের কে যেন সরকার সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।






