নিজস্ব প্রতিবেদক
ভৈরবের কৃতী সন্তান, কীর্তিমান লেখক ও তাত্ত্বিক রেবতী মোহন বর্মণের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে ভৈরব প্রেসক্লাবে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসবের। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রেবতী মোহন বর্মণ স্মৃতি পরিষদ, ভৈরব।
এ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় রেবতী মোহন বর্মণের জীবন ও দর্শনচিন্তাকে ঘিরে লেখা গ্রন্থ ‘আজন্ম বিপ্লবী রেবতী বর্মণ’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হারুন রশীদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন,রেবতী মোহন বর্মণ ছিলেন এমন এক চিন্তাবিদ, যিনি তাঁর সময়কে ছাড়িয়ে ভাবতে পারতেন। তিনি যুক্তিবাদ, সমাজতন্ত্র ও মানবমুক্তির আদর্শে আজীবন অবিচল ছিলেন। আজও তাঁর দর্শন তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলতে অনুপ্রেরণা দেয়।
গ্রন্থের লেখক ও জীবনীকার মো. আবদুস সাইয়ীদ বলেন, রেবতী মোহন বর্মণ ছিলেন সমাজতান্ত্রিক দর্শনের এক অগ্রদূত। তাঁর চিন্তাধারা ছিল সাধারণ মানুষের মুক্তি, শ্রমিক–কৃষকের অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পক্ষে। এই গ্রন্থে তাঁর সেই জীবনদর্শন ও সংগ্রামী চেতনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মনোরঞ্জন দাস, গবেষক ড. গোলাম শফিক, সংস্কৃতিকর্মী মোকাররম হোসেন শোকরানা, অধ্যাপক এম.এ. আজিজ মিয়া, মোহাম্মদ আলী, ও মো. শরীফ হোসেন।
সভাপতিত্ব করেন শরীফ আহমেদ, সভাপতি, রেবতী মোহন বর্মণ স্মৃতি পরিষদ, ভৈরব।
তিনি বলেন, রেবতী মোহন বর্মণ ছিলেন ভৈরবের গর্ব, বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জীবন ছিল জ্ঞান, সততা ও সাহসের প্রতীক। তিনি সমাজের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে ছিলেন এক আজন্ম বিপ্লবী।

রেবতী মোহন বর্মণ ১৯০৩ সালে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চায় যুক্ত হন। তিনি ছিলেন বাংলা ভাষায় প্রথমদিকের মার্কসবাদী তাত্ত্বিকদের অন্যতম। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি, মার্কস প্রবেশিকা, হেগেল ও মার্কস, এবং কৃষক ও জমিদার।
ব্রিটিশবিরোধী রাজনীতি, সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন ও প্রগতিশীল চিন্তার প্রচারে তাঁর অবদান অনন্য। তিনি ১৯৫২ সালের ৬ মে আগরতলায় মৃত্যুবরণ করেন।
স্মরণসভা জুড়ে ছিল শ্রদ্ধা, আবেগ ও চিন্তার উচ্ছ্বাস। বক্তারা বলেন, রেবতী মোহন বর্মণ শুধু একজন লেখক ছিলেন না -তিনি ছিলেন সমাজ বদলের দার্শনিক, এক নিরন্তর চিন্তার যোদ্ধা।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের হাতে ‘আজন্ম বিপ্লবী রেবতী বর্মণ’ গ্রন্থের কপি তুলে দেওয়া হয় এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।










Leave a Reply