১০ ভরি স্বর্ণ, নগদ ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও ব্যাংক এফডিআর চেক বই উধাও
ভৈরব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রবাসীর বসতবাড়ির কেচি গেইটের তালা ভেঙে আলমারিতে থাকা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ টাকা, ব্যাংকে রাখা ৩৭ লাখ টাকার এফডিআর চেক বই ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) গভীর রাতে ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্বপাড়া চৌধুরী বাড়িতে। চুরি হওয়া বাড়িটি ক্রোয়েশিয়া প্রবাসী মাসুম মিয়ার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাসুম মিয়ার স্ত্রী তামান্না বেগম তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতের অন্ধকারে সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা বাড়ির মেইন কেচি গেইটের তালা ও ঘরের স্টিলের আলমারির তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, ব্যাংকের এফডিআর চেক বই, দামি কাপড় ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর শুক্রবার সকালে বাড়িতে ফিরে সব কিছু এলোমেলো অবস্থায় দেখে হতবাক হয়ে যান তামান্না বেগম। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি রাতে বাবার বাড়িতে ছিলাম। সকালে ফিরে দেখি বাড়ির গেইটের তালা ভাঙা। ভেতরে ঢুকে দেখি আলমারির সব জিনিস উল্টেপাল্টে ফেলা। ১০ ভরি স্বর্ণ, নগদ ১ লাখ টাকা, ৩৭ লাখ টাকার ব্যাংক এফডিআর চেক বই, দামি শাড়ি—সব কিছু নেই। এমন ঘটনায় আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রবাসে থেকে কষ্ট করে যা জমানো ছিল, সব নিয়ে গেল চোরেরা। শুধু টাকার ক্ষতি নয়, অনেক আবেগের জিনিসও ছিল আলমারিতে। এখন ভয় হচ্ছে—এই এলাকায় আমরা কতটা নিরাপদ?”
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “সাদেকপুরে এর আগে ছোটখাটো চুরি হলেও এমন বড় চুরির ঘটনা অনেক দিন পর ঘটল। রাতে এলাকার রাস্তায় টহল খুবই কম থাকে। প্রশাসনের উচিত রাতের পাহারা বাড়ানো।”
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, প্রবাসীর বাড়িতে চুরির ঘটনাটি আমরা জানি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি এলাকায় কয়েকটি চুরির ঘটনার পর আমরা বিশেষ নজরদারি শুরু করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে আশা করছি।”










Leave a Reply