ভারতীয় ফুসকা ও জিলেট ব্লেডসহ বাল্কহেড আটক, চার চোরাচালানকারী গ্রেপ্তার
ভৈরব প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য নিষিদ্ধ ফুসকাসহ চারজন চোরাচালানকারীকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। ( ১ নভেম্বর) শনিবার গভীর রাতে মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ থানাধীন মা মনি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে একটি ব্লাকহেড (বাল্কহেড) আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ৬০ বস্তা ভারতীয় ফুসকা ও প্রায় ৬ হাজার ৪শত পিস (৩২০ পাতা) জিলেট ব্লেড উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা, আর জব্দকৃত বাল্কহেডটির মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে উদ্ধারকৃত মালামালের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১৮ লাখ টাকারও বেশি।
আটকরা হলেন ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের মৃত রমজান মিয়ার ছেলে ইসমাইল মুন্সি (৩৭), মৃত দানিছ মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া (৩৫), মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নিজাম (৫৫), এবং আব্দুল হামিদের ছেলে রানা (৩২)।
ভৈরব নৌ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতের বেলায় মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মা মনি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি বাল্কহেড আটক করি। তল্লাশি চালিয়ে ৬০ বস্তা ভারতীয় ফুসকা ও শত শত প্যাকেট জিলেট ব্লেড উদ্ধার করা হয়। আটক চারজনের বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে নৌ থানার উপ-পরিদর্শক মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্র। তারা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় ফুসকা ও জিলেট ব্লেড এনে ভৈরব ও আশুগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সফলভাবে এই চালানটি আটক করতে সক্ষম হয়েছি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছে, তারা প্রায় এক বছর ধরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ভারতীয় ফুসকা ও ব্লেড পাচারের সঙ্গে জড়িত। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করে ভৈরবের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করতো তারা।
এ ঘটনায় ভৈরব নৌ থানা পুলিশ বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় চোরাচালান আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। আটক চারজনকে উদ্ধারকৃত মালামালসহ আশুগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মেঘনা নদীপথ দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাচালান রোধে নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।










Leave a Reply