ভৈরব জেলা দাবিতে টানা আন্দোলন: তৃতীয় দিনে নৌপথ অবরোধ, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল আন্দোলনকারীরা
ভৈরব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবকে দেশের ৬৫তম জেলা ঘোষণার দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় জনতা। সড়ক ও রেলপথে টানা দুইদিনের অবরোধের পর আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে আন্দোলনকারীরা নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়ে ভৈরব লঞ্চ টার্মিনালে অবস্থান নেয়। তবে প্রায় দুই ঘণ্টা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির পর তারা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভৈরববাসীর প্রত্যাশা তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরীকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হোক। তারা বলেন, ভৌগোলিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভৈরব অনেক আগেই জেলা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

আন্দোলনকারীর এক মুখপাত্র সাইফুর শাহারিয়ার বলেন,আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। ভৈরবের মানুষের এই দাবিকে আর অবহেলা করা চলবে না। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুসংবাদ না এলে আমরা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
অন্য এক নারী আন্দোলনকারী বলেন,ভৈরবের মানুষের দাবিটা কোনো রাজনৈতিক নয়, এটা জনদাবি। আমরা জেলা চাই -এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার।
আজকের কর্মসূচিতে গত দুই দিনের তুলনায় অংশগ্রহণ কিছুটা কম ছিল। তবুও সকাল থেকে লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় নানা ব্যানার, ফেস্টুন, শ্লোগান ও মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি পালিত হয়। নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি ছিল জোরদার।
এর আগে রোববার ভৈরববাসী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে টানা দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
পরদিন সোমবার আন্দোলনকারীরা ভৈরব রেলওয়ে জংশন অবরোধ করলে নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে। ট্রেন ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ইঞ্জিনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, এতে কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
তবে এ ঘটনার সঙ্গে আন্দোলনকারীরা জড়িত নয় বলে দাবি করেন জেলা আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্য। তিনি বলেন, আমরা কখনোই সহিংসতা সমর্থন করি না। জেলা আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে একটি মহল ট্রেনে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে ভৈরব রেলওয়ে থানার স্টেশন মাস্টার ইউসুফ বাদী হয়ে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলার ঘটনায় আমরা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, ভৈরববাসীর প্রত্যাশা – দীর্ঘদিনের এই আন্দোলনের ফল যেন শিগগিরই আসে। স্থানীয় প্রবীণ সমাজসেবক আব্দুল কাদের বলেন, ভৈরব একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র, এখানে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে জংশন, নদীবন্দর, মহাসড়ক সবই আছে। এখন শুধু সরকারের একটি ঘোষণার অপেক্ষা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকার কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে লাগাতার অবরোধ ও গণমিছিলের ঘোষণা দেওয়া হবে।
শেষে আন্দোলনকারীরা বলেন: আমরা বিশ্বাস করি, সরকার জনগণের দাবিকে সম্মান জানাবে। দ্রুত ভৈরবকে ৬৫তম জেলা ঘোষণা করা হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।










Leave a Reply