ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ: উত্তাল জনতা, হুঁশিয়ারি—“ভৈরব জেলা না হলে রেলপথও বন্ধ করে দেব
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব। আজ রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শহরের দুর্জয় মোড়ে কয়েক হাজার মানুষ একত্র হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ অবরোধে সারাদেশের অন্যতম ব্যস্ততম এই মহাসড়কে থমকে যায় সব ধরনের যানবাহন। ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও স্থানীয় মানুষ।
আন্দোলনে অংশ নেয় ভৈরব ও আশপাশের কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, নরসিংদী, তাড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। এছাড়াও ভৈরবের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন, আইনজীবী, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

অবরোধ চলাকালে দুর্জয় মোড় ও আশপাশে ‘ভৈরব জেলা চাই, এখনই চাই’, ‘ভৈরববাসীর দাবি মানতে হবে’, ‘ভৈরব বঞ্চিত কেন? জেলা ঘোষণা চাই এখনই’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সভায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একাধিক বক্তা সরকারের উদ্দেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“ভৈরব এখন আর উপজেলা নয়, এটি দেশের অন্যতম শিল্প, বাণিজ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র। রেল, নদী ও সড়ক—তিন যোগাযোগপথের মিলনস্থল ভৈরব। তবুও প্রশাসনিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা বারবার বঞ্চিত হচ্ছি। এটা ভৈরববাসীর প্রতি অবিচার।”
অন্য এক বক্তা, ভৈরব বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি, বলেন,“ভৈরবের মানুষ দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। এখানে রেলবন্দর, নৌবন্দর, শিল্প এলাকা, বড় বড় বাজার—সবই আছে। এখন জেলা না হওয়া মানে আমাদের প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলা।”
ভৈরব সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের বাবা-দাদারা বহু বছর ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। ভৈরবের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সেবার জন্য নিজস্ব জেলা প্রয়োজন। জেলা হলে আমরা আর কিশোরগঞ্জে ছোটখাটো কাজে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হব না।”
বক্তারা আরও বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি না, দাবি জানাচ্ছি—ভৈরবকে জেলা ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় আমরা রেলপথ, নদীপথ, সড়ক—সব পথ বন্ধ করে দেব। প্রয়োজনে টানা কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ভৈরবকে জেলা ঘোষণার আশ্বাস মিললেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক অবদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে ভৈরব এখন পূর্ণাঙ্গ জেলা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
শেষ পর্যন্ত দুপুর ১২টার দিকে নেতৃবৃন্দ আগামীকাল সোমবার রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে সাময়িকভাবে মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেন। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিটি এখন কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে। ভৈরববাসীর এই গণআন্দোলন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হলে শিগগিরই বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।










Leave a Reply