ভৈরবে একই এলাকা থেকে ১০টি গরু চুরি, আতঙ্কে কৃষকরা
আফসার হোসেন তূর্জা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বেড়েছে গরু চুরির ঘটনা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ দক্ষিণপাড়া গ্রাম থেকে চুরি গেছে ১০টি গরু। সর্বশেষ গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে একই এলাকায় তিন কৃষকের গোয়ালঘর থেকে তালা কেটে ৫টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে মুর্শেদ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে দুটি ক্রস অস্ট্রেলিয়ান জাতের গাভী ও একটি বড় বাছুর, রুবেল মিয়ার গোয়াল থেকে একটি গাভী এবং আসমত আলীর গোয়াল থেকে একটি ষাঁড় চুরি হয়। গোয়ালঘরগুলো আধাপাকা এবং টিনের দরজায় তালা দেওয়া থাকলেও, চোরেরা তালা কেটে গরুগুলো নিয়ে যায়। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী কৃষক মুর্শেদ মিয়া বলেন, প্রতিদিনের মতো গরুগুলো গোয়ালে বেঁধে ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝরাতে একদল চোর এসে তালা ভেঙে আমার তিনটি গরু নিয়ে যায়। প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হলো। আমার ধারণা এলাকার কিছু অসৎ লোক এই চুরির সঙ্গে জড়িত। তা না হলে এক রাতে একই পাড়ার ৫টি গরু চুরি সম্ভব নয়।”
আরেক কৃষক আসমত আলী বলেন, রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি পাশের বাড়িতে চিৎকার হচ্ছে। গিয়ে দেখি আমাদের গোয়ালের তালাও ভাঙা, গরুগুলো নেই। পরে নদীর ধারে গিয়ে জানতে পারি জেলেরা নৌকায় করে কয়েকটি গরু নিয়ে যেতে দেখেছে। কিন্তু চোরেরা তাদের হুমকি দেয়ায় তারা কিছু বলেনি।
গ্রামের বাসিন্দা সোহান খান বলেন, গত মাসেও একই এলাকায় পাঁচটি গরু চুরি হয়েছিল। এবার আবার ৫টি গরু চুরি হলো। এক মাসে একই গ্রাম থেকে ১০টি গরু চুরি – এটা সত্যিই ভয়াবহ। অনেক কৃষক এখন গরু পালন বন্ধ করে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বলেন, গরু চুরি এখন আমাদের গ্রামে মরণব্যাধির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। দরিদ্র কৃষকদের একমাত্র সম্বল গরুগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে, তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। প্রশাসনকে অনুরোধ করবো যেন তারা নজরদারি বাড়ায়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও গ্রাম পুলিশ দিয়ে রাতের টহল বাড়ানো হবে।
ভৈরব নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, রাতে ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টহল টিম পাঠানো হয় এবং নদীপথে তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোনো গরু উদ্ধার করা যায়নি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রামে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, দ্রুত চোরচক্রকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।










Leave a Reply