ভৈরবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষানুরাগী রফিকুল ইসলাম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে ভৈরবজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মরহুম রফিকুল ইসলাম ভৈরবে নারী শিক্ষার অগ্রদূত হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ১৯৮৭ সালে ‘রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ’ এবং ১৯৮২ সালে ‘ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা আজও এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

সোমবার বাদ আসর রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ভৈরব পৌর কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ধারিত স্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়।

মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাদল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. রমজান আলী, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও মরহুমের ছোট ভাই মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহমেদ, বর্তমান অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ্ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ।

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশ ও সমাজের জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাদল বলেন, রফিক ভাই ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, এছাড়া তিনি ভৈরবে শিক্ষা বিস্তারে অনেক অবদান রেখেছে। আমরা এই অবদানের উনার কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ থাকবো। উনার বিদেহী তার মাগফেরাত কামনা করি।

মরহুমের ছোট ভাই ও ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার বড় ভাই শুধু আমাদের পরিবারের অভিভাবকই ছিলেন না, তিনি পুরো ভৈরববাসীর জন্য একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন। তাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,তিনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয়।

পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহিন বলেন, রফিকুল ইসলাম ছিলেন একজন সৎ, নীতিবান, সমাজমুখী ও ধার্মিক মানুষ। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ভৈরববাসী আজীবন মনে রাখবে।

রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ্ বলেন, প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি সবসময় এই প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিতেন। তাঁর আন্তরিকতা ও দিকনির্দেশনায় কলেজটি আজ এই অবস্থানে এসেছে।

কলেজের একাধিক শিক্ষক বলেন,তিনি শুধু প্রতিষ্ঠাতা নন, আমাদের অভিভাবক ছিলেন। তাঁর আদর্শ ও নীতিকে ধারণ করেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে পারা আমাদের জন্য গর্বের।

এলাকাবাসীও গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, রফিকুল ইসলাম ছিলেন ভৈরবের গর্ব। তিনি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মতো মানুষ বারবার জন্মায় না।

তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

দৃশ্যপট নিউজ / NA

  • Related Posts

    হুইলচেয়ারে ভর করে নতুন স্বপ্ন: কালিকাপ্রসাদে ১৯ প্রতিবন্ধীর জীবনে ফিরলো চলার শক্তি
    • January 12, 2026

    নাজির আহমেদ আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে অন্যের কাঁধে ভর করে কিংবা ঘরের এক কোণে বসেই কেটে গেছে জীবন। বাইরে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ছিল না চলার শক্তি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে

    কুলিয়ারচরে গভীর রাতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ইউএনও ইয়াসিন খন্দকারের
    • January 7, 2026

    বাড়িতে বাড়িতে রাত ঘুরে ঘুমন্ত ও অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোঃ ইয়াসিন খন্দকার‎ ‎মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম‎“কম্বলখান পাইয়া আমার বাল লাগদাছে,‎আজ রাইতটা বালা কইরা ঘুমাইতে ফারুম, ‎আল্লা বাবারে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    English
    drishapot-news