ভৈরব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে একই বংশের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে শ্রীনগর গ্রামের আজন্দির বাড়িতে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে শিপন মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে মুশকত আলী মিয়ার সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাতেই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শালিস বৈঠকে বসেন। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় বিরোধের জের ধরে রোববার সকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, রাত থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। আমরা ভেবেছিলাম সকালে হয়তো মিটে যাবে, কিন্তু উল্টো সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।
আরেক বাসিন্দা রুবেল মিয়া জানান,সকালেই হঠাৎ করে দুই পক্ষের লোকজন দা-লাঠি নিয়ে বের হয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারামারি শুরু হয়ে যায়। আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই।
স্থানীয় গৃহবধূ শিউলি আক্তার বলেন, এভাবে নিজেদের মধ্যে মারামারি খুবই দুঃখজনক। বাচ্চারা ভয় পেয়ে কান্নাকাটি করছিল। আমরা ঘরের দরজা বন্ধ করে ছিলাম।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল মিয়া বলেন,এলাকায় আগে থেকেই মাদক নিয়ে ঝামেলা চলছিল। যদি আগে থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটতো না।
ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) আবু তালেব বলেন, মাদক সেবন নিয়ে পূর্বের বিরোধের জের ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দৃশ্যপট নিউজ / NA





