কিশোরগঞ্জের ভৈরবে “মা ইলিশ ধরবো না, দেশের ক্ষতি করবো না” এই স্লোগানে মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে পৌরসভায় সিনিয়র মৎস কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এ চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় চাল বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বহু জেলে।
এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলে অভিযোগ করে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন দরিদ্র জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এ চাল বিতরণে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং স্বজনপ্রীতি হয়েছে। প্রকৃত দরিদ্র জেলেরা নামের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যারা জেলে নন ও স্বাবলম্বী পরিবার তাদের নাম তালিকায় উঠে এসেছে। এমনকি অনেকের ছেলে ইতালি, সৌদি আরব, কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে। এছাড়া অনেকে আবার অন্য পেশায়ও নিয়োজিত রয়েছে তাদের নামও তালিকায় রয়েছে। তবুও তারা পাচ্ছে ভিজিএফ এর চাল।
এছাড়া জেলেরা আরো অভিযোগ করে বলেন, তালিকায় জেলেদের নাম আছে, কিন্তু চালের কার্ড দেওয়ার সময় কোন প্রকার যাচাই বাচাই না করেই কর্মকর্তার মন মতো করে জেলেদের নাম দিয়েছে। এতে করে সরকার নির্ধারিত সহায়তা থেকে প্রকৃত ও হতদরিদ্র জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান তারা।
জেলে ফারুক মিয়া বলেন, আমি সারা বছর মাছ ধরে সংসার চালায়। এখন মাছ ধরা বন্ধ আমি চলবো কি ভাবে। সরকার থেকে বলেছে চাল দিবে। কিন্তু এখন আমাকে বলতেছে চাল দিবে না। তারা মানুষ দেখে দেখে নাম ডুকাচ্ছে। অন্য জেলেরা যদি চাল পাই তাহলে আমারও তো চাল দরকার। আমিও তো জেলে তাহলে আমাকে কেন চাল দিবে না।
আরেক জেলে হক মিয়া বলেন, আমি ছোট কাল থেকে এই পেশায় আছি। আমার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস আসে নদীতে মাছে ধরেই। তবুও আমি কেন কোন সহায়তা পাবনা। আজ চাল দিতাছে সবাই পায়তাছে কিন্তু আমার জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও নামের তালিকায় না থাকায় চাল দেই নাই।
এছাড়া আরেক জেলে বাদল মিয়া বলেন, অনেকের ছেলে বিভিন্ন দেশে ভালো পজিশনে আছে। তাদের নাম তালিকায় রয়েছে। অনেকে আজ চাল নিতেও এসেছে। কিন্তু আমরা যারা প্রকৃত জেলে আমরা কেন চাল পাবো না, যদি তারা চাল পাই।
এ বিষয়ে ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের ৫৬ জন জেলের মধ্যে আমরা যাচাই বাচাই করে ৩০ জন জেলের নামের তালিকা করা হয়। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে চাল বিতরণকালে আরও ৫ জন জেলেকে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
এ দিকে পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডে ৩৫ জন জেলের তালিকা করার কথা থাকলেও এর মধ্যে সোমবার (৬ অক্টোবর) ৩০ জন জেলের নামের তালিকা করেন তিনি। বাকি ৫ জেলের নামের তালিকা কেন বাদ রাখা হয় এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, যেদিন নামের তালিকা করা হয় ঐদিন অনেকে জেলে কার্ড নিয়ে আসলেও তাদের মধ্যে অনেককে দেখে প্রকৃত দরিদ্র জেলে মনে হয়নি। যার কারণে ৩৫ জনের তালিকা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে পৌরসভায় চাল বিতরণের সময় অনেক জেলে চাল নিতে আসে। তাদের মধ্য থেকে প্রকৃত জেলে দেখে বাকি ৫ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এদিকে চাল বিতরণের সময় ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান এর সাথে তালিকায় জেলের নাম অন্তর্ভুক্ত নিয়ে স্থানীয় জেলেদের তর্ক-বিতর্ক হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা জয় বণিক বলেন, সারাদেশ ব্যাপী মা ইলিশ রক্ষাতে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন, আহরণ সকল কিছু নিষিদ্ধ। এই উপজেলায় যে সকল জেলেরা ইলিশ মাছ আহরণের সাথে জড়িত তাদের সরকার মাসিক ভিত্তিতে ভৈরব পৌরসভার ভিতরে জেলে কার্ড অনুযায়ী তালিকার ২২০ জন জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। যেন তারা ইলিশ মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকে কিন্তু তারা নদীতে অন্যান্য মাছ আহরণ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
Leave a Reply