আফসার হোসেন তূর্জা
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে মানবপাচার চক্রের অন্যতম সদস্য শারমিন (২৫), যিনি ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ফুসলিয়ে ময়মনসিংহের পতিতালয়ে বিক্রি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করে এবং বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে প্রেরণ করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত শারমিন নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার মৃত আহম্মদ আলীর মেয়ে। বর্তমানে তিনি ভৈরব রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভৈরব রেলস্টেশন এলাকায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করা এক দম্পতির মেয়ে ফারজানা ওরফে নাইমা (১৪) গত ১০ জানুয়ারি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা পারভিন বেগম ভৈরব থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। তথ্যের ভিত্তিতে ৪ ফেব্রুয়ারি ভৈরব থানা পুলিশ ও পরিবারের সহযোগিতায় ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকার নাজমা বোর্ডিং নামক পতিতালয় থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া কিশোরীর মা পারভিন বেগম জানান, আমার মেয়েকে শারমিনসহ আরও ৪-৫ জন ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ময়মনসিংহে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। যারা কথা শুনত না তাদের মারধর করা হতো। দোষীদের শাস্তি চাই।
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন,এটি একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র। আসামিরা একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশে অসহায় কিশোরীকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করেছিল। শারমিনসহ মোট সাত জনের মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি সদস্যদের ধরার অভিযান চলছে।
চক্রটি ধ্বংসের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ পদক্ষেপ অব্যাহত আছে।
দৃশ্যপট নিউজ / NA





