নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার টুকচানপুর-লুন্দিয়া চরপাড়া মেঘনা বাজারে গত ৪ ডিসেম্বরের ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হারুন মিয়া (৪৫) সাতদিন পর মৃতুবরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার লুন্দিয়া গ্রামের মৃত জয়ধর মিয়ার ছেলে। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। হারুন মিয়ার মৃত্যুসংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্যরা দৃশ্যপট নিউজকে
জানান, বিস্ফোরণের পর হারুন মিয়ার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুতই তাকে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দিন যত যাচ্ছিল, তার শারীরিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠছিল। চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে পরিবার জানায়।
৪ ডিসেম্বর দুপুরে আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া এলাকার মেঘনা বাজারে একটি দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার লিক হয়ে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট শব্দে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় হারুন মিয়াসহ অন্তত ১৯ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাজারের অনেক দোকানে নিয়মিত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার হলেও সুরক্ষাব্যবস্থা যথাযথভাবে মানা হয় না। এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরে তারা বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার তদারকি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করার দাবি জানান।
হারুন মিয়ার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছেন।






