ভৈরবে কোটি টাকার প্রতারণায় অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা ফারজানা বিরুদ্ধে
ভৈরব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে নারী উদ্যোক্তা নিলুফা জাহান লিপির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা ফারজানা আহমেদ সুমনার বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাতে শহরের কমলপুর হাজী হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষিকা ফারজানার প্রতারণার বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী নিলুফা জাহান লিপি ও তার স্বামী মাসুম সরকার। সংবাদ সম্মেলনে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষিকা ফারজানা আহমেদ সুমনা একজন “ভদ্রবেশী প্রতারক”। মিষ্টভাষী এই শিক্ষিকা ব্যবসায় পার্টনার হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভৈরবের বহু নারী-পুরুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ তার কথায় বিশ্বাস করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে নারী উদ্যোক্তা নিলুফা জাহান লিপি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই ভবনে বসবাস করার সুবাদে ফারজানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষিকা তাকে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করান এবং পরবর্তীতে ধর্মমেয়ে বানিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এরপর “উৎসব গ্যালারি” নামে ব্যবসার কথা বলে ফারজানা তার কাছ থেকে প্রথমে আড়াই লাখ টাকার কাপড় নেন। পরে “স্বপ্ন আউটলেট” নামে নতুন ব্যবসা শুরুর কথা বলে ৩০ শতাংশ পার্টনারশিপের আশ্বাস দেন। এতে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো এফডিআর ভেঙে ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে আরও ২০ লাখ টাকা মিলিয়ে মোট ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন লিপি। তাদের মধ্যে লিখিত চুক্তিও হয়।
কিছুদিন পর শিক্ষিকা ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে আরও ৭০–৮০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকার ঋণ পেলেই সব টাকা ফেরত দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর লিপি বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধার করে আরও ৭০ লাখ টাকা তুলে দেন ফারজানাকে।
পরবর্তীতে জানা যায়, ফারজানা আহমেদ ও তার স্বামী শামীম আহমেদ ভূঁইয়া ভৈরবের আরও অনেক মানুষের সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণা করেছেন। পাওনা টাকা চাইলে উল্টো ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন লিপি।
ভুক্তভোগী লিপি বলেন, শিক্ষিকা ফারজানা বারবার আশ্বাস দিলেও টাকা ফেরত দেননি। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল ৭০ লাখ টাকার একটি চেক দেন, কিন্তু সেটি ব্যাংকে জমা দিলে ডিজঅনার হয়। এরপর আমি উকিল নোটিশ পাঠাই এবং ২০২৫ সালে কিশোরগঞ্জ আদালতে ৭০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা (নং-৩৭১/২৫) দায়ের করি।
বর্তমানে ফারজানা আহমেদ ও তার স্বামীর হুমকির কারণে তিনি পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা। তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে “স্বপ্ন আউটলেট” দোকানটি নিয়েও ব্যবসায়িক জটিলতা দেখা দেয়। দোকানের মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে সম্প্রতি শোরুমের মালামাল সরিয়ে নিয়ে সেটি সিলগালা করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে অভিযুক্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা ফারজানা আহমেদ সুমনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ। বিষয়টি আদালতের মাধ্যমেই সবকিছু ফয়সালা হবে।










Leave a Reply