নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও ঝরে পড়া রোধে সরকারি উদ্যোগে স্কুল ফিডিং (টিফিন) কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ভৈরব বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলার মোট ৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় আসছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর টিফিন হিসেবে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা বিতরণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ড্রপআউট হার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম. মামুনুর রশীদ। তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন বিতরণ করে বলেন, প্রাথমিক স্তরে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনের পূর্বশর্ত। অপুষ্টির কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। সরকারের এই উদ্যোগ তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতে আমরা কঠোরভাবে নজরদারি করব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সানজিদা বেগম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণয় কুমার এবং ভৈরব প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সোহেলুর রহমান। বক্তারা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও টাটকা খাবার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাস্ট এস এস এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি আরিফুল হক সুজন জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব নির্ধারিত বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে এই খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে এবং মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভৈরবের প্রাথমিক শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
দৃশ্যপট নিউজ / NA





