নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অবস্থিত তিনটি তেল ডিপোতে গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার (১১ মার্চ) তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ এজেন্সি ডিলাররা ডিপো অফিস ঘেরাও করেন এবং ডিপো ইনচার্জদের প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে ডিলারদের রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং দুপুর আড়াইটার দিকে আবার তেল সরবরাহ শুরু হয়।
জানা গেছে, ভৈরবে অবস্থিত যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা ওয়েল কোম্পানির তিনটি ডিপো থেকে প্রতিদিন কিশোরগঞ্জসহ দেশের অন্তত ১০টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। এসব ডিপো থেকে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদী, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও এজেন্সি ডিলারদের কাছে তেল পাঠানো হয়।

ডিলার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার থেকে হঠাৎ করেই ডিপোগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ শুরু করা হয়। প্রথম দুই দিন বিভিন্ন জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোকে সীমিত আকারে তেল দেওয়া হলেও অনেক এজেন্সি ডিলার তেল পাননি। পরে মঙ্গলবার কিছু ডিলারকে অল্প পরিমাণ তেল দেওয়া হলেও বুধবার আবার তাদের জন্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় এজেন্সি ডিলাররা ডিপো কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে অফিস ঘেরাও করে ডিপো ইনচার্জদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এ সময় ডিপো কর্তৃপক্ষ ফিলিং স্টেশন মালিকদের ট্যাংকলরিতে তেল সরবরাহের চেষ্টা করলে এজেন্সি ডিলার সমিতির সদস্যরা তাতে বাধা দেন। পরে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে আলোচনা শেষে ডিলারদেরও রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ডিপোগুলোতে আবার তেল সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়।

ডিপো এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তেল নেওয়ার জন্য শতাধিক ট্যাংকলরি অপেক্ষা করছে। কয়েকজন ট্যাংকলরি চালক জানান, তারা দুই থেকে তিন দিন ধরে ডিপো এলাকায় অবস্থান করেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং তাদের ভোগান্তিও বেড়েছে।
পদ্মা ওয়েল কোম্পানির এজেন্সি ডিলার মো. কবির হোসেন বলেন, আমরা সারা বছর নিয়মিত তেল নেই। কিন্তু গত তিন দিন ধরে আমাকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। এখন তেলের খুব প্রয়োজন, অথচ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছি।
ভৈরব জ্বালানি তেল মালিক সমিতির সভাপতি মো. হোসেন আলী বলেন, ভৈরবে প্রায় ৩০ জন এজেন্সি ডিলার রয়েছে। ডিপোর মোট তেলের বড় অংশই আমরা সারা বছর কিনে থাকি। অথচ এখন আমাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে। হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় সেচের জন্য আমরা তেল সরবরাহ করি। যদি তেল না পাই, তাহলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং কৃষকের ফসল উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চাই না। আমাদের যৌক্তিক দাবি হলো নিয়মিত ও ন্যায্যভাবে তেল সরবরাহ করা। সেই দাবিতেই আমরা ডিপো অফিসে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি।
এ বিষয়ে যমুনা ওয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ মো. মতিউর রহমান বলেন, আমাদের ডিপোতে বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ লিটার তেল মজুত রয়েছে। তবে হেড অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। আজ ডিলারদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং তাদের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

মেঘনা ওয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, হেড অফিস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী আমরা তেল সরবরাহ করছি। বর্তমানে আমাদের ডিপোতে প্রায় ১৫ লাখ লিটার তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে সবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
অন্যদিকে পদ্মা ওয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ মো. মোমতাজ বলেন, আমাদের ডিপোটি তুলনামূলক ছোট। এখানে প্রায় ২ লাখ লিটার তেল মজুত রয়েছে। আমরা রেশনিং পদ্ধতিতে এজেন্সি ডিলারদের তেল দিচ্ছি। এছাড়া ডিপোটি নদীর তীরে হওয়ায় ট্যাংকলরিতে তেল সরবরাহের সুযোগ সীমিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনটি ডিপোতেই রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়ালে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে জ্বালানি তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা।
দৃশ্যপট নিউজ /NA





