নাজির আহমেদ আল-আমিন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিম্নআয়ের পরিবারের সহায়তায় চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ১০ জন সুবিধাভোগী নারীর হাতে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।(১০ মার্চ) মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের বড় তুলাকান্দি গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি সুবিধাভোগী নারীদের হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ এবং ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃত নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র মানুষের জন্য প্রয়োজন ছিল। বড় তুলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, গ্রামের অনেক অসহায় পরিবার আছে যারা নিয়মিত সহায়তা পেলে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারবে। ফ্যামিলি কার্ড তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হবে।
কার্ড পাওয়া সুবিধাভোগীদের মধ্যেও দেখা যায় আনন্দ ও স্বস্তি। সুবিধাভোগী গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে সংসার চালাই। এই কার্ডের মাধ্যমে যদি নিয়মিত খাদ্য সহায়তা পাই, তাহলে আমাদের পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। আরেক সুবিধাভোগী সালমা খাতুন বলেন, এতে আমাদের মতো গরিব মানুষের কিছুটা হলেও ভরসা থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষ বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের প্রকৃত অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষকে সহায়তার আওতায় আনা। যেন কেউ বঞ্চিত না থাকে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সহায়তা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়।
তিনি আরও বলেন, সরকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং ফ্যামিলি কার্ড তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন এর আওতায় আসে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর কল্যাণ কামনা করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
দৃশ্যপট নিউজ/ NA





