নাজির আহমেদ আল-আমিন
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে সব সরকারি অফিস কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা চত্বরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

রোববার (১ মার্চ) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলা গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি দপ্তরের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। কোথাও আবার অফিস খোলা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চেয়ার ছিল ফাঁকা। সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা এসে অপেক্ষা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে কাজের অগ্রগতি হয়নি।

যেসব দপ্তরে এ চিত্র দেখা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা মহিলা বিষয় কর্মকর্তার কার্যালয়, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। সকাল সাড়ে ১০টার পর ধীরে ধীরে কয়েকজন কর্মকর্তাকে অফিসে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, রমজানে সময় পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে সবাই নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসে। কিন্তু আমরা এসে দেখি অফিস বন্ধ। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে। আরেকজন বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, রমজান মাসে সকাল ৯টায় উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয়ের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, সব দপ্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে বা দায়িত্বে অবহেলা করলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে সেবার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
দৃশ্যপট নিউজ / NA





